+8801303523442 24/7 Open
কি ভাবে ফেসবুক মার্কেটিং শুরু করবেন?

কি ভাবে ফেসবুক মার্কেটিং শুরু করবেন?

ফেসবুক মার্কেটিং এর হাতেখড়ি আমি যখন এই মুর্হূতে আমার পিসির সামনে বসে এই পোস্টটি লিখছি ঠিক সেই সময় আপনি কি জানেন প্রতি সেকেন্ডে ৬টি করে নতুন ফেসবুক প্রোফাইল বা একাউন্ট তৈরি হচ্ছে! ঠিক আজকের এই দিনটিতে ফেসবুকে আরো প্রায় ৫ লাখ লোক নতুন প্রোফাইল বা একাউন্ট তৈরি করবে। আমেরিকায় প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৭ জন ফেসবুক ব্যবহার করে থাকে; যার শতকরা পরিমাণ ৬৯%। গড়ে একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী একদিনে ৫৮.৫ মিনিট সময় ব্যয় করে থাকে ফেসবুকে।

প্রায় ৭৮% আমেরিকান কাস্টমার নতুন নতুন প্রোডাক্ট দেখার জন্য তারা ফেসবুক ব্যবহার করে থাকে; যা প্রায় অর্ধেকের থেকেও ২৮% বেশি। পুরো ইন্টারনেট দুনিয়ার সোশ্যাল মিডিয়া জগতের ৬০.৬% দখল করে আছে এই ফেসবুক। অর্থ্যাৎ আপনি যদি শুধু এই ফেসবুকেও উপরও ফোকাস করেন ভালোভাবে তাহলেও আপনার ভালো কিছু করার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০১৯ সালের একটা জরিপে দেখা যায় ফেসবুকের বর্তমান একটিভ ইউজারের সংখ্যা প্রায় ২৫০ কোটি। ৭৫% অনলাইন ইউজার; যাদের মাসিক আয় ৭৫ হাজার ডলারের উপরে তারা ফেসবুকে অবস্থান করছে। এই যে উপরে আমি আপনাকে এতোগুলো জরিপ দিলাম, এর মূল কারনটি কি জানেন? জাস্ট এইটুকু একটু ধারনা দিলাম যে আপনি যদি ফেসবুক মার্কেটিংটাই শুধু ভালো ভাবে জানেন, তাহলে আশা করা যায় আপনি এই ফেসবুক মার্কেটিং করেই বেশ ভালো কিছু করতে পারবেন।

নতুন অবস্থায় অনেকের মনেই একটা প্রশ্ন কাজ করে যে অনলাইন থেকে যদি কিছু আর্নিং করে মোটামুটি হাতখরচটা চলত তাহলেই তো হতো। বেশিরভাগ সময় তাদেরকে এসইও বা এ ধরনের লং টার্ম মার্কেটিং চ্যানেলের কথা বললে তারা উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন। কারন এতো দিন ধরে কাজ করে তারপর সাইট গুগলের ১ম পেজে র‌্যাংক করে সেখান থেকে আর্নিং নিয়ে আসা পর্যন্ত অনেকের র্ধৈয্যে কুলায় না। আমার মনে হয় তাদের জন্য এই ফেসবুক মার্কেটিংটি খূব ভালো একটা কিছু নিয়ে আসতে পারে।

ফেসবুক মার্কেটিং এর কথা বললেই সবার প্রথমে আমাদের মাথায় যে জিনিসটা কাজ করে সেটা হচ্ছে ফেসবুকে কোনো একটা পেজ তৈরি করে সেখানে কোনো একটা পোস্ট দিয়ে তারপর নিচে যে “Boost” – লেখাটি থাকে সেখানে ক্লিক করে বয়স, লিঙ্গ, ইন্টারেস্ট কিছু দিয়ে পোস্টটি বুস্ট করে দিলেই তো কাজ হয়ে গেল, তাই না! জ্বি, হলো। তবে এখানে একটা ছোট্ট ”কিন্তু” আছে। ধরুন আমাকে কোনো বিয়ে বাড়িতে দাওয়ার দেওয়া হলো।

খাবার পরিবেশনের সময় প্রথমবার সবজি দেওয়ায় এবং সেই সবজিটি খুব ভালো হওয়ায় আমি যদি সর্ম্পূণ রাইসটি সেই সবজি দিয়ে খেয়ে ফেলি, তাহলে কিন্তু আমি পরবর্তীতে আমি রোস্ট বা অন্যান্য মাংস জাতীয় আইটেমগুলো খেতে পারব না; আমার পেট ভরে যাবে। এক্ষেত্রে আমার সুযোগ থাকার পরেও আমি সেটির সদ্ব্যবহার করি নি।

ঠিক একই রকম ভাবে ফেসবুক আপনাকে কোনো একটি এড ক্যাম্পেইন রান করার পূর্বে আপনাকে ফেসবুক অনেকগুলো অপশন দেয় আপনার এড ক্যাম্পেইনটিকে সুন্দরভাবে অপ্টিমাইজড করে রান করার জন্য। কিন্তু আমরা অনেক সময়ই সেগুলো ব্যবহার করি না।

এর মধ্যে একটি অন্যতম বিষয় হচ্ছে Facebook Audience Insights। এটি এমন একটি টুলস যেখানে আপনি এড রান করার পূর্বেই ধারনা করতে পারবেন যে আপনার এডে কি পরিমাণ রিচ আসতে পারে, ক্লিক আসতে পারে ইত্যাদি। আরেকটু সহজভাবে বুঝিয়ে বলি। ধরুন আপনি চিন্তা করলেন যে আপনি সিলেটে থাকেন।

আপনার একটি ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভলোপমেন্ট এজেন্সি আছে এবং আপনি তার জন্য ফেসবুক মার্কেটিং করতে চাচ্ছেন। আপনি তেমন কোনো এড রির্সাচ না করেই লোকেশন, বয়স, লিঙ্গ, ইন্টারেস্ট ইত্যাদি বিষয় ঠিক করে এড রান করে দিলেন ৭ দিনের জন্য। ৭ দিন পরে দেখলেন ফেসবুক ঠিকই আপনার একাউন্ট থেকে টাকা কেটে নিয়ে গিয়েছে কিন্তু আপনার তেমন কোনো সেল আসে নি। এরকম কেন হয় জানেন? কারন আপনি যাদের কাছ থেকে এডটি দিয়েছেন তারা আসলে এই ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভলোপমেন্ট নিয়ে আগ্রহী ছিল না।

আপনি যদিও ইন্টারেস্টে সিলেক্ট করে দিয়েছেন যে যারা এগুলো সর্ম্পকে আগ্রহী, তাদের কাছে এডটি রিচ করার জন্য। ফেসবুকও ঠিক সেই একই কাজটি করেছে। তার কাছে যাদের যাদের মনে হয়েছে যে তারা ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভলোপমেন্ট এর বিভিন্ন গ্রুপে, পেজে বেশ ভালো একটিভ, তারা এ ধরনের বিভিন্ন ব্লগ বা সাইটে বেশ ভালো টাইম দিয়ে থাকে তাদেরকে এডটি দেখানো যেতে পারে, তাদের কাছে সে এডটি দিয়েছে। কিন্তু সেই সমস্ত অডিয়ান্সরা হয়ত নিজেরা ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভলোপমেন্ট শিখছে বা পারে। তাই তারা তো আর আপনাকে দিয়ে ওয়েবসাইট ডিজাইন করাবে না।

আপনার তাদেরকে টার্গেট করা দরকার ছিল যারা ওয়েব ডিজাইন নিয়ে কোনোরকম পূর্ব ধারনা বা জ্ঞান নেই। কিন্তু তার বর্তমানে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা খুব দরকার। এমন সব মানুষকে আপনি যদি টার্গেট করতেন তাহলে কিন্তু আপনি ঠিকই মোটামুটি বেশ ভালো পরিমাণে কিছূ সেল জেনারেট করতে পারতেন আশা করা যায়। কিন্তু আমরা অনেক সময়ই ঠিক এই ভুলটি করে থাকি; যার কারনে এডে খুব ভালো পরিমাণে রিচ আসলেও আমরা তেমন কোনো সেল পাই না।

এই জিনিসটি আপনি এড রান করার আগেই যাচাই করে নিতে পারবেন যদি আপনি Facebook Audience Insights টুলসটি ব্যবহার করেন (টুলসটির ব্যবহার আমি আসলে আপনাদের দেখাতে পারছি না। ফেসবুকে একটার পর একটা ছবি দেওয়া যায় না; ওয়েবসাইট হলে দেখানো যেত। তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দু:খিত। তবে আপনারা গুগল, ইউটিউবে কিছুটা ঘাটাঘাটি করলে বিষয়টি বুঝতে পারবেন আশা করি)।

আপনি যেই কীওর্য়াডে, যেই লোকশনে এডটি দিচ্ছেন সেখানে যদি বেশিরভাগ হয় আপনার কলেজ ছাত্র, বেশিরভাগ যদি হয় গৃহিণী বা যারা মূলত চাকরি বা ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত থাকার কথা নয়; তাদেরকে যদি আপনি ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভলোপমেন্ট এর সার্ভিস না দিয়ে ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভলোপমেন্ট শেখার কোনো টিউটোরিয়াল বা রির্সোস শেয়ার করতেন তাহলে আশা করা যায় আপনি সেখান থেকে বেশ ভালো কিছু সেল জেনারেট করতে পারতেন।

আবার কখনও কখনও যদি আপনি কোনো বিজনেস এরিয়াকে টার্গেট করে এড ক্যাম্পেইন রান করতে চান, তখন চাইলে সেখানে খুব সহজেই আপনার সেই সার্ভিসটি সেল করতে পারবেন। এক্ষেত্রে বয়স ও ইন্টারেস্ট খুবই গুরুত্বর্পূণ একটি ভূমিকা পালন করবে। সব সময় মনে রাখবেন আপনি যতো বেশি মানুষ টার্গেট করবেন আপনার এড তত ভালো কাজ করবে

Leave a Reply

Close Menu